Film Review

বাহুবলী টু: দ্য কনক্লুশন

  • পরিচালনা: এস এস রাজামৌলি

    অভিনয়: প্রভাস, অনুষ্কা শেট্টি, রানা দুগ্গুবাটি, সত্যরাজ, রামাইয়া কৃষ্ণণ

    তারিখটা ছিল ১০ জুলাই ২০১৫, মুক্তি পেয়েছিল তেলুগু ছায়াছবি ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’  — এমন একটা ছবি যা উলটে দিয়েছিল সমস্ত হিসেব। নিছক আঞ্চলিক ছবি হিসেবেই থেমে থাকেনি ‘বাহুবলী’। হিন্দি, মলয়লম ও তামিল, এই তিনটি ভাষায় ডাবিং করা হয়েছিল। ১৮০ কোটি বাজেটের এই ছবি বক্স অফিস আয় ছিল ৬৫০ কোটি টাকা! বলিউডের খানদের সমস্ত দাপাদাপি যেন দপ করে নিভে গিয়েছিল এই ছবি মুক্তির পরে। সেই ছবির নামেই ইঙ্গিত ছিল দ্বিতীয় ভাগের। শুধু ইঙ্গিত নয়, রীতিমতো প্রতীক্ষা করেছেন দর্শক এই দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ ‘বাহুবলী টু: দ্য কনক্লুশন’ ছবিটির জন্য। সেই প্রতীক্ষার কারণ অবশ্য একটাই, প্রথম ছবি যে-প্রশ্নে শেষ হয়েছিল তার উত্তর, ‘কাটাপ্পা কেন বাহুবলীকে হত্যা করেছিল?’ অবশেষে দু’বছর পার করে মুক্তি পেল দ্বিতীয় ভাগ।

    মোটের উপর এ ছবি রূপকথায় ভর করা। রূপকথার ক্ষেত্রে একটি কথা প্রচলিত, সেখানে নাকি গল্পের গোরু গাছে ওঠে। কিন্তু এ ছবিতে জলের নৌকা আকাশে ওড়ে! তবু এই ছবি একঘেয়ে লাগে না। আসলে আমাদের বয়স যতই বাড়ুক না কেন, আমাদের অন্তরে শৈশব বোধহয় আমাদের ছেড়ে কখনওই যায় না। হলিউডের তাবড় তাবড় ওয়ার মুভিজ় যেমন, ‘ট্রয়’, ‘ব্রেভহার্ট’, ‘৩০০’-এর সঙ্গে ‘বাহুবলী ২’ ছবিটি তুলনীয়। কিন্তু কেবল রক্তক্ষয়ের ছবি এটি নয়। ভারতীয় ছবি, তাই ভারতের সংস্কৃতি এবং আবেগ এ ছবির পরতে পরতে। এমনকী, ছবির প্রথম ভাগের এক অংশে হাস্যরসের উপাদানও মজুত। তাই শুধুমাত্র শত্রু দমন নয়, প্রজা পালনের গল্পও বলে এ ছবি।

    মাহিষ্মতীর সিংহাসনে আসীন হবেন অমরেন্দ্র বাহুবলী (প্রভাস) এই ঘোষণা করেন রাজমাতা শিবগামী (রামাইয়া)। এরপর দেশ ভ্রমণে যান বাহুবলী। সেখানে কুন্তল রাজ্যের রাজকুমারী দেবসেনার (অনুষ্কা) সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। দু’জনেই একে অপরের প্রেমে আবদ্ধ হন। কিন্তু শিবগামীর নিজের পুত্র বল্লালদেব (রানা) দেবসেনার তৈলচিত্র দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। এর পর শুরু হয় নানা দ্বন্দ্ব। ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে খুন হতে হয় বাহুবলীকে। তার ছেলে মহেন্দ্র বাহুবলী ওরফে শিবা তার পিতার খুনের প্রতিশোধ নিতে আক্রমণ করে বল্লালদেবের সেনার উপর। সোজা কথায় প্রতিশোধের গল্প। এই ছবির গল্পের ধাঁচা কেমন হবে তা দর্শক আগেই জানতেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের গুণে তা আকর্ষক হয়ে উঠেছে।

    এ ছবি দেখে প্রথমেই যেটা মনে হয় তা হল, বলিউড অর্থাৎ যা বিশ্বের কাছে ভারতীয় সিনেমার আঁতুড়ঘর, সেখানেও তো অনেক বিগ বাজেট ছবি নির্মিত হয়। তবু যে-ম্যাগনাম ওপাস রাজামৌলি উপহার দিলেন, তা কেন পাওয়া যায় না সেখানে? এ ছবির প্রধান অঙ্গ স্পেশ্যাল এফেক্টস, যুদ্ধের দৃশ্যে নানা যন্ত্র ও অস্ত্রের ব্যবহার সত্যিই তারিফযোগ্য। এই সিরিজ়ের প্রথম ছবিটি ৬৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে সেরা ছবি এবং সেরা স্পেশ্যাল এফেক্টস-এর জন্য সম্মানীত হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ছবিটির টেকনিক্যাল দিক যেন আগের ছবিটিকেও টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতাধারী। প্রভাস, অনুষ্কা, রানা ও রামাইয়া সকলেই তাঁদের সেরাটা এ ছবির জন্য উজাড় করে দিয়েছেন। তবে আলাদা করে যাঁর কথা না বললে এই চিত্রসমালোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় তা হল এ ছবির হিন্দি ভার্শনে মনোজ মুন্তাশিরের সংলাপ ও গীতরচনা। যুদ্ধের দৃশ্য ও সংলাপ, দুই মিলে তৈরি হয়েছে ছবির ‘গ্র্যানজার’।

    পরিশেষে বলতে হয়, সমকালীন সময় যখন মেয়েদের সম্মানহানি একটি চর্চিত বিষয়, সেখানে দোষীকে উচিত শাস্তি কীভাবে দেওয়া উচিত তা এ ছবিতে শিখিয়েছেন পরিচালক। সত্যিই যদি এই ছবি দেখে দেশের আইনকর্তারা দোষীদের ওইভাবে শাস্তির কথা একবারের জন্যও ভেবে থাকেন তা হলে বোধহয় মন্দ হয় না!